ছাদ থেকে তারা দেখা যায়। তাই দেখি। এত তারা জমে আছে। অন্ধকারে শিউলি ফুটে আছে টের পাই।বিকেলগুলোও পালায় কখন টের পাই না। রাত্রি বোঝা যায়। পরী নামে কি মাঝরাতে ? এই ছাদে ? দেখিনি কোনোদিন।
ভোরে উঠি অথচ ভোর দেখা হয় না বহুদিন। আজ রাতে বাদুড় দেখলাম আকাশে। বাদুড় নারকেল গাছে থাকে শুনিনি কখনও। অথচ প্রত্যেকবারই নারকেল গাছে গিয়ে বসলো বলেই মনে হল। ছোটবেলায় হোস্টেলে একটা ছাতিম গাছ ছিল। রাত্রে ছাতিমের অসাধারণ গন্ধ টের পেতাম। আর বাদুড় ছিল ইয়া বড় বড়। চরকির মত পাক খেত একগাদা বাদুড়। বাড়িতে একটা ছাতিম গাছ থাকলে বেশ হত। বাড়িতে ছাতিম গাছ নেই , একটা ডালিম গাছ ছিল, সেটাও কেটে ফেলা হয়েছে। বাড়ির চারপাশে বাড়ি হয়ে গেছে। আগে জায়গাটা ফাঁকা ফাঁকা ছিল।আর বাড়ির পাশেই একটা বাঁশঝাড়। তখন কখনও ছাদে যেতাম না। এখন বাঁশঝাড়টা কেটে ফেলা হয়েছে। পাশের বাড়িগুলোও বড় বড়।
জগজিৎ সিং এর গজল শোনা হয়। ইতনা না মুঝসে পেয়ার করো, ম্যায় নশে মে হুঁ। ইতনা তো মেরে ইয়ার করো, ম্যায় নশে মে হুঁ। তখন নেশা নামে।
বন্ধুরা বিরক্ত হয় কখনো। বিরক্ত করি। সাইকেল নিয়ে নতুন নতুন রাস্তা খুঁজি কোনো কোনো বিকেলে। নতুন রাস্তা বেরোয়। নতুন জায়গা। সেই নতুন রাস্তায় সন্ধ্যা নামে। সেই রাস্তায়ই বাড়ি ফিরি।মনে হয় ফেরার সময় রাস্তাটা বদলে গেছে। পরে আবার গেলে মনে হয় রাস্তা তো একই আছে। কিছু কিছু পছন্দের জায়গা হয়েছে। যেতে ইচ্ছে করে। সবসময় যাই না।
বন্ধুরা সব দূরে দূরে। কেউ আসে কেউ যায়। পুজো আসছে। পুজো গেলে শীত আসবে। আবার কুয়াশা। পুজো আসলে বয়েসের হিসাব। এখানে বসন্ত হিসাব করে না কেউ। পুজোতেই বয়সের হিসাব হয়।
আবার ঝিঁঝির ডাক শুনতে পাই। ঝিঁঝিগুলো সব ফেরত এসেছে। মাঝে কোথায় গেছিল কে জানে। কে কোথায় যায় জানা হয় না। টেলিফোনে পুরোনো গলার আওয়াজ পাই। কারো কারো গলার আওয়াজও বদলে গেছে।পিছনের পুকুরের অর্ধেকটা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে। আশ্চর্য রকম ভাবে বাড়ির পিছনে এখন বেশ কিছু পাখি দেখি মাঝে সাঝে। ফিঙে দেখছি বেশ। ডাহুক দেখতাম আগে। সেগুলো দেখা যায় না।
কিছু চেনা রাস্তায় নতুন বাড়িঘর হয়েছে। অচেনা লাগে। ঘরে ফিরে ঘুম লেগে থাকে চোখের পাতায়।শঙ্খ ঘোষও ভারী লাগে।ঘুমোবার আগে কিছু খুঁজি। যেন কিছু খোঁজার আছে।
No comments:
Post a Comment