Saturday, September 20, 2025

প্রলাপ

 যখন চারপাশ সামান্য শান্ত হয়ে আসে। নিঝুম হয়ে আসে শহর। তখন গুটি গুটি পায়ে চেয়ার টেনে বসি টেবিলের সামনে, প্রশ্ন করি। যা মাথায় আসে, তার অনেকটাই লেখা হয়ে ওঠে না। লিখলে প্রশ্ন করি, কাউকে এই ভাবনাগুলো দেখিয়ে কি লাভ? সেই প্রশ্নে লাভ নামক শব্দটার দৌড়াদৌড়ি এত বেশী যে প্রশ্নটাই ক্লান্ত হয়ে পরে। এ. আই. এর চটজলদি তৈরী লেখার মধ্যে এত সময় নিয়ে লেখার কি মানে আছে? এইসব সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। তবুও পুরোনো অভ্যাসে লিখি এখনো। যদি চিন্তা ভাবনাকে পরবর্তী প্রজন্মে পাঠানোর দায় লেখার হয়, তা বোধহয় এ. আই খারাপ করেনা। উত্তর দিতে পারে, তর্ক করতে পারে, যুক্তি দিয়ে কথাবার্তা ভেঙে দেখতে পারে। তাহলে? নিজের মত করে সাজানো কিছু যুক্তি আমার আছে, যেমন এ. আই. চলতা ফিরতা মানুষ নয়, তাদের আবেগ নেই, ভাবালুতা নেই, কিন্তু যত দেখি তত আরো উল্টো যুক্তি মাথায় আসে। ইদানীং দেখলাম Claude নাকি কথাবার্তায় অনেক বেশী empathy দেখায়। যাহোক, আমি এসব নিয়ে লিখতে বসিনি, অজুহাত লিখছি, কারণ বহুদিন কোথাও বাংলায় দুটি শব্দ লিখে দেখাই নি কাউকে, এই লেখাটা শেষ হয়ে গেলে আমি কোথাও একটা পোস্ট করব। লেখার শুরুতেই এইসব ভাবনাচিন্তা আসে, সেগুলো দিয়েই বলে দিই যে লেখার ইচ্ছে এবং দেখানোর ইচ্ছে থেকেই লেখা। 

এর পরের ভাবনা আমি আপাতত কি নিয়ে লিখব ? কোনো নিয়ম নেই, যা ইচ্ছে লিখব। সুতরাং, যদি কেউ এই লেখাটা পড়ে, তাকে উত্তর দেওয়ার দায় আমার নেই, সে স্বাধীন সিদ্ধান্তে পরের প্যারাগ্রাফ গুলো পড়বে। 

 প্রলাপ 


এখান থেকে সমুদ্র দূরে নয়। মাঝে মাঝে হালকা গরম হাওয়া বয়ে যায়, শরীরে ঘাম। এইসব ওতপ্রোত নিয়মের মাঝে রাস্তা বড় ব্যস্ত। তার মধ্যে পান সিগারেটের দোকান, সেখানেও সবাই ব্যস্ত। নিয়মের হেরফেরে কখন যেন একটা পুরোনো বাড়ি, আর সেটায় তালা। সেও এসেছে বোধহয় দূরের কোথাও থেকে, আটপৌরে চালা। এর মধ্যে একটা দুটো ফলের দোকান, এটা সেটা পশরা সাজিয়ে বসে কিছু লোক। তার মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে দাঁড়িয়ে থাকি অবিন্যস্ত। চেনা রাস্তার বাইরে আজকাল যাওয়া মুশকিল, সেই অচেনা রাস্তাগুলো আরো বেশী অচেনা। তার মধ্যেই দেখি একজন রোজ ঢুকে যায়, এই লোকটাকে আমি চিনি, ওকে রোজ দেখি নানা জায়গায়, নানা রাস্তায়, নানা সময়, একইসাথে বসে আছে। ওই লোকটাই ওই লোকটার সাথে গল্প করছে। এদের পেরিয়ে যাই হাঁটাপথে, শহর পেরোতে পারি না। তবু কিছুটা পেরোলে আবার শান্ত এক রাস্তায় আসি, সেখান নিয়ম বড় বেশী। এখানে সবুজ বেশী, তবু বড্ড গোছালো, মানিয়ে নিতে সময় লাগে। কে একটা হিসেব বলেছিল নাকি একশো মানুষে এক সবুজ। আমি বুঝিনি, কঠিন হিসেব। আরেকটু এগিয়ে গেলে সবুজের মধ্যেই ডুবে যাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে পাঁচিল আছে, সে পাঁচিল টপকানো যায় না। দূর থেকে সবুজ দেখি খানিকক্ষণ। তারপর শান্ত হয়ে বসি, ভাঙাচোরা চেনা জিনিসপত্রকে কিছু এদিক ওদিক করি, মাঝে মাঝে একটা দুটো তৈরীও হয় কিছু, কোনো কোনোদিন হয় না। কিছু লোকজন আসে, সবাই ভাঙা কাঠখড় খোঁজে, সবাই কিছু চাওয়া বোঝে, কিছু পাওয়া বোঝে। আমিও। কিছু বুঝি, কিছু বুঝি না। এইসব শেষ হলে, শান্ত বিকেল নামে নিজের দায়ে। সে বিকেলের তেমন কিছু নেই, এপাশ চায়, ওপাশ চায়, সন্ধ্যা আঁকড়াবে বলেই বোধ হয়। বিকেলের একটা নিজস্ব স্রোত আছে, সেই স্রোতে দেখি শান্ত রাস্তাও আবার সামান্য ব্যস্ত হয়। সবাই সন্ধ্যের দিকে যায় বোধহয়। আমিও সন্ধ্যে জড়িয়ে ঘরে ফিরি। ততক্ষনে আলো জ্বলে চারপাশে। 


গাল ছুঁয়ে, ছাদ ছুঁয়ে যে আধার নামে
তারই নাম ভালো, সাথে অল্প কিছু কালো।

রোজ পৃথিবীর এলোমেলো ছাদ থেকে তারা গুনি। তারারা বড্ড বেহিসেবি, কখন কে কার ঘাড়ে, কে কার মাথায় চেপে যায়, বুঝি না। তার মাঝে ফুটন্ত উল্কির মত ছুটে যায় এরোপ্লেন। বাড়ির সামনেটায় একটা গাছ আছে, সেই গাছের নীচে অন্ধকার জমে থাকে। আলো যায় না। তার সামনেটা পেরোই, বৃষ্টি হয়েছিল কখন ? জল জমে থাকে। সেই জলের চারপাশ জুড়ে বেগনি রঙের লতা, ছটাক লালও ছড়ানো, রাতের ঝাপসা আলোয় পুরো বোঝা যায় না। ব্যস্ততা ক্লান্ত হয়েছে তখন। মাথার কাছে, বালিশের পাশে কোনো চেনা বই খুঁজে পাই না। অচেনাগুলোই কখন যেন চেনার জায়গা নিয়ে নিয়েছে জোর করে। বকি না আর, সেগুলোই ছুঁয়ে, কখন যেন দুচোখ জুড়ে কুয়াশা হয়। সেই কুয়াশা নামে শরীর জুড়ে। এইসব  আর মনে থাকে না।