Saturday, August 27, 2016

হাবিজাবির হাতেখড়ি

চিত্রম, এলহাম বসে ছিল।  কিছু বলছিলো চুপিচুপি।  নির্ঘাত মুখরোচক কিছু । আমি অবিনাশের খাটে গিয়ে বসলুম। চিত্রম বললো, "পোঁদে  লাথি। বিড়ির মাংস খাবি ? বিড়ির মাংস ?" বুঝলুম পাত্তা দিতে চাইছে না। চিত্রম ওরকম ভাট বকে থাকে অবশ্য। আমি তাই জিজ্ঞেস করলুম , "তোর কাছে ওই মুভিটা আছে?" চিত্রম এবার একদম পাত্তা দিলো না। মুখ ঘুরিয়ে এলহাম এর সাথে ফিজিক্স নিয়ে কি একটা আলোচনা শুরু করে দিলো। আমার হেব্বি রাগ লাগলো। শালা এতক্ষন বুঝি ফিজিক্স আলোচনা করছিলে ! আমিও খুব সিরিয়াস মুখ করে বসে রইলাম, যেন আমিও সব বুঝতে পারছি। রিলেটিভিটি ফিটি শুনে আমার মুখটা কাঁচুমাঁচু হয়ে যেতে লাগলো। রিলেটিভিটির সূত্র ধরেই মাথাটা ভারী ভারী লাগতে লাগলো। আমার হটাৎ মনে পড়েছে এরকম করে বলে উঠলুম, "আড়াইটে না? তিনটে থেকে আমার একটা ক্লাস আছে" বলেই উঠে পড়লুম।



জগদীশ গোয়া গেছে। কোনো বড়োসড়ো ব্যাপারে পি.এইচ.ডি করার জন্যে। গোয়ায় নাকি প্রচুর মেয়ে।  অফুরন্ত সম্ভার।
 জগদীশ উৎসাহের সাথে বললো, "বুঝলে বস। প্রচুর মামনি।  লাইন এ  আছি।" আমি বললাম, "বলো কি? তুলে ফেললে নাকি?"
শোনা গেলো  "তুলবো কি ? উঠে আছে।" ফোনেই টের পেলাম জগদীশের হাত কোমরে চলে গেছে, চোখটা সামান্য ট্যারা হয়ে গেছে, অনেকটা রণবীর কাপুরের ফিল্মি স্টাইল এ দাঁড়িয়ে।
বললাম, "বস তুমি এখানে কিছু পারলে না, ওখানে গিয়ে গুল ঝাড়ছো?"
-"না হে , এবারেরটা সত্যি সেটল করে দিয়েছি। "
আমি বললাম, "দেখো, আমিও জোগাড় করে ফেলেছি।  দেখলে হা হয়ে যাবে। " তারপর গলা ঝেড়ে নিয়ে বললাম "সত্যি তুলে ফেলেছো ? একটু  দেখো না বস তাহলে, ইয়ে মানে তোমার শালী টালি যদি থাকে বা তার কোনো বান্ধবী... দেখো না একটু।"



লোকটার চোখে রোদচশমা। বিকেলবেলা। রোদ্দুর নেই। তবু রোদচশমা ! রাস্তার ধরে দাঁড়িয়ে থাকলো কিছুক্ষন। উদাস ভঙ্গিতে মিষ্টির দোকানটার দিকে এগিয়ে আসলো। হটাৎ আমার দিকে ঘুরে তাকালো। আমার মনে হলো আমি লোকটার চোখ দেখতে পেলাম। কালো চশমার মধ্যে দিয়ে লোকটার গাঢ় তীব্র চোখ আমার দিকে চেয়ে আছে । তারপর বাঁদিক ঘুরে হাত উঁচিয়ে আঙ্গুল দেখিয়ে বললো, "ওই দোকানে পাওয়া যায়।  পরে থাকবেন।  চোখে ধুলো কম লাগবে।" তারপর আবার উদাস ভঙ্গিতে হেটে যেতে লাগলো সামনের দিকে। আমি খুব অবাক হয়ে কিছুক্ষন লম্বা উদাস লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম যার চোখে ধুলো লাগে না। তারপর আমার মনে পড়লো, আমার হাতে পুরোনো ঘড়ি সেটা সারাতে হবে, তারপর পিসির বাড়ি যেতে হবে আর হাতে আমার বাজারের ব্যাগ। আমি বাজারের দিকে জোরপায়ে এগিয়ে গেলাম।







Wednesday, August 17, 2016

এতো বৃষ্টি হচ্ছে ক'দিন। সব ধুয়ে মুছে নিয়ে যাচ্ছে। পুকুর গুলো ভর্তি হয়ে গেছে।  বিলগুলোও। বন্যা হবে নাকি ? এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। যে মেঘগুলো থেকে বৃষ্টি হচ্ছে সেগুলোর রং সাদা। 

একদিন বাইরে গেলাম। ট্রেনে বসে চড়ে। নিজেকে রাজা রাজা মনে হলো। বাসের মধ্যে দিয়ে চারপাশের ফাঁকা মাঠগুলো সরে সরে যেতে দেখলাম। পুজো আসছে কিছুদিন পর। ফাঁকা মাঠগুলো কাশফুলে ভরে যাবে। আগেও দেখেছি। বেশ সুন্দর লাগে।

ট্রেনে চড়ে দেখলাম কয়েকজন ভদ্রমহিলা ছেলের ক্যান্সার এর জন্য সাহায্য চাইছেন। এক টাকাও সাহায্য করলাম না। ট্রেনের দরজায় দাঁড়ালাম। চুল কাটা হয় না বহুদিন। হাওয়ায় চুল উড়তে থাকলো। বিকেলবেলা।  ক্ষেতে বোনা পাটের উপর থেকে আকাশ দেখছিলাম। নীল আকাশ। পাটক্ষেত সরে সরে যেতে লাগলো। নীল আকাশ একই থাকলো, মাঝে মাঝে সাদা পেঁজা পেঁজা মেঘ।

হোস্টেল অচেনা লাগে। জ্যোতি বাড়ি গেছে। কম মানুষ চিনি। চেনা রাস্তা গুলো অচেনা মনে হয়। রাত্রে গেলাম সকালে এলাম। কত নতুন মুখ। নতুন বিল্ডিং হচ্ছে আরো কিছু। বেরোনোর সময় দেখলাম সাদা বাসটা একরাশ ধুলো উড়িয়ে এক বা দুজনকে নিয়ে যাচ্ছে। 

বাড়ি আছি বহুদিন। ঘরে। বিকেলে অচেনা রাস্তা খুঁজতে বেরোতাম। যাই না আর। এক লাইন লিখতে গিয়েই আটকে যাই। বহু দিন কিছু লিখিনি প্রায়। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পড়ছি কিছু। তার লেখাই আবার টুকে দিলাম। 

এতকাল খুব ভালো ছিলাম, ভবিষতেও ভালো থাকবো। 
যেমন চিরকাল গিয়েছি, ভবিষ্যতেও 
তেমনি যাবো অন্ধকারে,
আত্মগোপনকারী রোগা জিরজিরে সেই জলের ধরে। 
ঘরে ফিরেই যেমন নিয়ম,
দাঁতে কাটবো নিমের পাতা,
আগুন ছোঁবার জন্য আঙুল বাড়িয়ে রাখবো। 
এই নিয়মে ভালো ছিলাম, ভালো আছি 
এই নিয়মেই ভালো থাকব। 

   -নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (প্রত্যহ শ্মশানযাত্রা )