মাঝে মাঝে কিছু বুঝি না। ঝরাপাতার মত দিন ঝরে চলে। সূর্যের এল লাল নীলাভ হয়ে হয়ে রাত্রি নামে। আবার সকাল হয়। আবার শান্ত দুপর আসে জানলায়। আবার বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যে। সূর্যের সাথে না বলা কথারা টুপটাপ ঝরে যায় গোধূলির ঘাসে। কি ভোগ জীবন ? দুপাশে পেরিয়ে রাস্তার দল বেরিয়ে যায় সুতোর মত ? কোন রাস্তা কোথায় যায় ? একরাশ তারার খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে আমারো প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে ''তুমি কথা হইতে আসিয়াছ ?'' এত মানুষ , কেন আসে, কেন যায় ? আমার বাড়িতে পাতিলেবুর গাছ ছিল। সেই গাছের পাশে দাঁড়িয়ে সবাইকে আমার বড় ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। আমার ভীষণ বড় হাত থাকতো, এই পৃথিবী জড়িয়ে ধরতাম বড় আদরে। সাইকেল নিয়ে দূরে নাজানা পথে চলে যেতাম। অনেক সর্ষে পাটক্ষেত বুনো ভাট জঙ্গল পেরিয়ে হয়তো দেখতাম কোনো ছোটবেলার বনধু মাছ ধরছে খেপলা জাল ফেলে। সাইকেল রেখে জানতে চাইতাম কিরে কেমন আছিস? কেমন আছে সবাই ? সবাই ভালো আছে তো ? সবাই যেন ভীষণ ভালো থাকে। সেখানে দাঁড়িয়ে সূর্য ডোবা দেখতাম। বিলের রং লাল করে সূর্য ডুবছে চুপচাপ। কি অদ্ভুত লাগে। আলো মুছে গেলেও দাঁড়িয়ে থাকতাম বহুক্ষণ। তারপর হয়তো কালো নিকষ আকাশের তলায় দাঁড়িয়ে থাকতাম। বা একরাশ তারার মধ্যে দাঁড়িয়ে দুটো একটা চেনা তারা খুজতাম। বা হয়তো চাঁদনী রাতে মেঠো পথে সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরতাম চুপচাপ। সেই চেনা রোজের মধ্যে দিয়ে ঢুকতাম মধ্যবিত্ত পাড়ায়, শান্ত হয়ে গেছে। শুধু জিমখানার সামনের ছোটো মাঠটায় আলো টাঙিয়ে ছেলেরা হয়তো ব্যাডমিন্টন খেলবে শীতের রাতে। রাতে ছাদে যাবো। ভাইকে বলব এই তারাটাও চিনে ফেলেছি জানিস তো। তারপর হয়তো আবার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লিটল ম্যাগাজিনের প্ল্যান করবো অক্লেশে। হয়তো করা হবে না , তবুও বলব। বন্ধুরা সব সরে সরে গেছে। ফাঁকা স্রোতে ভেসে গেছি আমিও। হয়ত বইয়ের আলমারিতে পুরোনো বই দেখে মনে পড়বে আলোককে বইটা ফেরত দেওয়া হয় নি। আবার হয়তো শেষ পর্যন্ত শঙ্খ ঘোষে চলে যাবে হাত। শেষ অব্দি বিছানায় পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়ব আলগোছে, পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ শেষ করা হয়ে উঠবে না। এইসবই। কি ভীষণ ভালোবেসে রেখে দেবো চাদরে। পরে কোনোদিন চাদর খুললে ঝরে পড়বে টুপটাপ , আদরে কুড়িয়ে নেব আবার। আবার একবার মনে হবে কিছু বুঝি না। ঝরাপাতায় আরো কত পাতা জমে যাবে আরো। সেইসব আদর কুড়িয়ে বিলি করব আবার।
Wednesday, November 29, 2017
Monday, July 31, 2017
পোড়াও পোড়াও
এই আগুনে সবই পোড়াও
যত বিষদাঁত আর মাটি
ছড়ানো সব পাথর ছুঁয়ে
জলেই নেভাও চিতা ,
দহন শেষে
যদি সামান্য হই খাঁটি।
পোড়াও পোড়াও দাবানলে
ঈশ্বর আর পবিত্র সব পুঁথি
আমৃত্যু ক্রোধ আর বাঁধন ছেঁড়া খুঁটি
জন্ম পোড়াও মৃত্যু পোড়াও
অসংলগ্ন ধাঁধা
পোড়াও সব হিসেব নিকেশ
পোড়াও সব বাধা।
পৃথিবী পুড়ুক, পুড়ুক সবার দেশ
চেতনা আর অবিশ্বাসও
এই দহনে শেষ।
জন্ম পোড়ায় মৃত্যু, জলের হিসেব ছাই
দহন শেষে আবার বাঁচতে যদি চাই।
Saturday, June 17, 2017
Thursday, June 1, 2017
Thursday, May 25, 2017
সারাক্ষন রক্ত ঝরছে।
সমানে।
আমি প্রলেপ দেব বলে ক্ষত মিটিয়েছি সমানে।
থাক সব ইচ্ছেয় চুনকালি।
অফুরন্ত সময় কেটেছে মিথ্যা দানে।
অস্ত্র ভেজাব
বহুদিন তরবারি দেওয়া হয়নি শানে।
ভুল সত্যি খালি।
যদি ক্লান্ত লাগে, ক্লান্তি আসে।
কালো চাদর বিছিয়েছি,
মনের দুপাশে।
না পাওয়া বসন্ত আনে।
সত্যি আনে বেরঙা দিন
ফুল ঝরা গাছ
আরো জল পায়
স্বপ্নেরা সব একাকী, ক্ষীণ।
কিছু চাই না ,
সেখানে দাঁড়ি।
দাঁড়িয়ে পাথর গুনেছি
ভুল সব আমারই।
ঘোরা হয় না,
সময় পিছু পায়ে হেঁটে যায়
দেহ জুড়ে কালি
সকলেই রং চায়।
ইচ্ছেরা সব রক্ত
সেই রক্তে নদী
সব ইচ্ছে জল চায়
আমিও ভুলেছি।
আর ভেসেছি বন্যায়।
Wednesday, March 1, 2017
বৃষ্টি হোক খুব। শহর ভিজে যাক। ঘরবাড়ি গাছপালা। সমুদ্রও ভিজুক যেমন ভিজে থাকে আজীবন। সব রাস্তা খালি হয়ে যাক। বেপরোয়া গাড়িগুলো পড়ে থাক। আমি একা শুয়ে থাকব রাস্তায়। যেমন মন থাকবে, তেমনি আমিও। মন ভিজবে, শরীর ভিজবে খুব।
আমি জানি তারপর বৃষ্টি থেমে যাবে। আমাকেও ভেজা শরীরে উঠতে হবে রাস্তা থেকে। ঘরে ফিরতে হবে। বেপরোয়া গাড়িগুলো ফিরে আসবে রাস্তায়। মানুষ থাকবে না। তবুও, এই এখন, এখন, খুব বৃষ্টি হোক।
আমি জানি তারপর বৃষ্টি থেমে যাবে। আমাকেও ভেজা শরীরে উঠতে হবে রাস্তা থেকে। ঘরে ফিরতে হবে। বেপরোয়া গাড়িগুলো ফিরে আসবে রাস্তায়। মানুষ থাকবে না। তবুও, এই এখন, এখন, খুব বৃষ্টি হোক।
Sunday, February 19, 2017
Subscribe to:
Comments (Atom)