Tuesday, October 18, 2016

হারিয়ে গেছি, রোজ ছুটেছি
                       ভাত পাথরে
রোদ্দুরে ছাপ রোজ রেখেছি
                      হাত আদরে।

তবুও তুমি এত কঠিন
যত ভেবেছি ছোঁব না আর
                    ছোঁব না আর
ততই আমার সব দরকার
       ছুটছে ভীষণ তোমার দিকে।

তোমার দিকেই আঙুল তুলে
বলছে আমায়
 খুব সাধারণ
    খুব সাধারণ গল্প আমার
হয়তো ভীষণ ভুল করেছি তোমায় লিখে। 

Tuesday, October 11, 2016

পুজো

আজ দশমী। পাড়ার পুজোয় অনুষ্ঠান হচ্ছে।বৃষ্টি হয়েছে কাল বেশ। আজও বৃষ্টি হয়েছে।বন্ধুরা সবাই ব্যস্ত।কেউ পুজোতে,কেউ নিজের কাজে।আমার কাজ নেই,ভুলভাল যা হচ্ছে তাই লিখে দিলুম। 

পুজোর অসুর। অলোকটা পড়তে পড়তে বখে গেছে।সেইটা বললেই খচে যায়। সারাদিন মোষের মত পড়ে। সেদিন এইটাই বললাম। তাতে আমায় অসুর বলে গালাগাল দিল। পুজোয় মানুষ বই পড়ে? সারাদিন মোষের মতো পড়লে তো লোকজন তাকে মহিষাসুর বলতেই পারে। এতে হিংসাত্মক গালাগাল দেবার কোনো কারণ থাকতে পারে না। এরকম হিংসাত্মক মনোভাব দেখানোর জন্য অলোককে আমি মনে মনে পুজোর অসুর উপাধি দিলাম।

পঞ্চমী।দাদা বৌদি। বাপ্পাদা আর বৌদি।বিয়ে হয়েছে গত বছর। কপোত কপোতী। এই প্রথম আমাদের বাড়িতে। ভীষণ হ্যা হ্যা হল। আমার অবশ্য দাদার উপর বেশ রাগ ছিল। দাদাগুলো হেব্বি সেলফিশ হয়ে গেছে। ভাইদের কথা মোটেও ভাবে না। আরে অন্তত একটি বোন আছে দেখে প্রেম ট্রেম করা উচিত ছিল। ভাইওয়ালা দাদারা শালী না থাকলে সেখানে প্রেম করতে পারবে না, এরকম একটা সাংবিধানিক নিয়ম অবশ্যই থাকা উচিত ছিল। 

পুজোর দুঃখ। অবশ্যই চিত্রম। বেচারা মোবাইল ফোন হারিয়ে ফেলেছে।দামী মোবাইল ফোন। পকেটমার। যে লোকটা মেরেছে তার নির্ঘাত পুজো ঝলমলে হবে। এইজন্য আমাদের মত যাদের  সস্তা মোবাইল ফোন, তারা নির্ভীক, দুঃসাহসীও বলা চলে। 

 অসামাজিক। পুজো আসলেই আমায় মা অসামাজিক বলে। অষ্টমীতে অঞ্জলি দিতে হবে এই ভেবেই আমার গলা শুকিয়ে আসত। বেশ কয়েকবছর সে পাট চুকিয়ে দিয়েছি বলে আমায় প্রত্যেকবারই এই শব্দটা শুনতে হয়। 

পাড়ার পুজো। ছোট্ট প্যান্ডেল।  একগাদা অনুষ্ঠান। আর পুরোনো গান।মাঝেমাঝে  সারাদিন তারস্বরে গান বাজায় বিরক্তি।তবে পাড়ার পুজোটা ভালো।বেশ ভালো। গোলমালের কথা মনে পড়ছে না। কালকে কি ঝামেলা হয়েছিল ? জানি না, মনেও পড়ছে না। 

দূর্গা। অষ্টমীতে সব সুন্দরী মেয়ে, যারা শাড়ি পড়ে হেব্বি সেজেগুজে এসেছিল। অষ্টমীতে অঞ্জলীর সময় তাদের দেখতে যাই নি।অন্যায়।এই অন্যায়ের মাসুলস্বরূপ আমি তাদের সবাইকে এ পুজোয় দূর্গা বানালুম। 

পুজোর গান। গানের চেয়ে ঢাকটাই বেশ ভালো। ঢ্যাঙকুড়াকুর ঢ্যাঙকুড়াকুর বোলটা বাদ দিলে পুজো আলু ছাড়া খিচুড়ি।আমি একবার বাজাতে গিয়ে নিজের তালবোধ নিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেলুম। ঢাকী বিশ্রী রকম মুখ করায় আর চেষ্টা করতে সাহস পেলুম না। 

বেপাড়া। একটা প্যান্ডেলের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। ভিড় থেকে দূরে। একটা লোক দাঁড়িয়ে প্রথমে প্রণাম করল ভক্তিভরে। তারপর একগাদা গালাগাল দিলো দূর্গার উদ্দেশ্যে। পুরোটা শুনতে পেলাম না বাকি আওয়াজে। ভাবভঙ্গীতে শব্দ আন্দাজ করে নিলুম। তারপর আবার ভক্তিভরে প্রণাম করল। মাতাল বলে মনে হল না।  আমায় দেখে হাসলও একবার।আমিও হাসলুম যেন আমরা পরিচিত।এই লোকটাকে আমি চিনি না।

পুজোর শেষ। এখনো দুঃখ টুক্ষ টের পাচ্ছি না। মিষ্টি খেতে না পেলে আমার ঠিক দুঃখ পায় না।জিভের দুঃখ। রসোগোল্লা,ল্যাংচা,চমচম, লেডিকেনি,কালোজাম,সীতাভোগ।দুঃখ হবে খুব।দেখলেই জিভ দিয়ে জল ঝরবে অঝোরে।আমি এই বিজয়ায় খুব দুঃখ পেতে চাই। 

Wednesday, October 5, 2016

প্রলাপ

ছাদ থেকে তারা দেখা যায়। তাই দেখি। এত তারা জমে আছে। অন্ধকারে শিউলি ফুটে আছে টের পাই।বিকেলগুলোও পালায় কখন টের পাই না। রাত্রি বোঝা যায়। পরী নামে কি মাঝরাতে ? এই ছাদে ? দেখিনি কোনোদিন। 

ভোরে উঠি অথচ ভোর দেখা হয় না বহুদিন।  আজ রাতে বাদুড় দেখলাম আকাশে। বাদুড় নারকেল গাছে থাকে শুনিনি কখনও। অথচ প্রত্যেকবারই নারকেল গাছে গিয়ে বসলো বলেই মনে হল। ছোটবেলায় হোস্টেলে একটা ছাতিম গাছ ছিল। রাত্রে ছাতিমের অসাধারণ গন্ধ টের পেতাম। আর বাদুড় ছিল ইয়া বড় বড়। চরকির মত পাক খেত একগাদা বাদুড়। বাড়িতে একটা ছাতিম গাছ থাকলে বেশ হত। বাড়িতে ছাতিম গাছ নেই , একটা ডালিম গাছ ছিল, সেটাও কেটে ফেলা হয়েছে। বাড়ির চারপাশে বাড়ি হয়ে গেছে। আগে জায়গাটা ফাঁকা ফাঁকা ছিল।আর বাড়ির পাশেই একটা বাঁশঝাড়। তখন কখনও ছাদে যেতাম না। এখন বাঁশঝাড়টা কেটে ফেলা হয়েছে। পাশের বাড়িগুলোও বড় বড়। 

জগজিৎ সিং এর গজল শোনা হয়। ইতনা না মুঝসে পেয়ার করো, ম্যায় নশে মে হুঁ। ইতনা তো মেরে ইয়ার করো,  ম্যায় নশে মে হুঁ। তখন নেশা নামে।

বন্ধুরা বিরক্ত হয় কখনো। বিরক্ত করি। সাইকেল নিয়ে নতুন নতুন রাস্তা খুঁজি কোনো কোনো বিকেলে। নতুন রাস্তা বেরোয়। নতুন জায়গা। সেই নতুন রাস্তায় সন্ধ্যা নামে।  সেই রাস্তায়ই বাড়ি ফিরি।মনে হয় ফেরার সময় রাস্তাটা বদলে গেছে। পরে আবার গেলে মনে হয় রাস্তা তো একই আছে। কিছু কিছু পছন্দের জায়গা হয়েছে। যেতে ইচ্ছে করে। সবসময় যাই না। 

বন্ধুরা সব দূরে দূরে। কেউ আসে কেউ যায়। পুজো আসছে। পুজো গেলে শীত আসবে। আবার কুয়াশা। পুজো আসলে বয়েসের হিসাব। এখানে বসন্ত হিসাব করে না কেউ। পুজোতেই বয়সের হিসাব হয়। 

আবার ঝিঁঝির ডাক শুনতে পাই। ঝিঁঝিগুলো সব ফেরত এসেছে। মাঝে কোথায় গেছিল কে জানে। কে কোথায় যায় জানা হয় না। টেলিফোনে পুরোনো গলার আওয়াজ পাই। কারো কারো গলার আওয়াজও বদলে গেছে।পিছনের পুকুরের অর্ধেকটা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে। আশ্চর্য রকম ভাবে বাড়ির পিছনে এখন বেশ কিছু পাখি দেখি মাঝে সাঝে। ফিঙে দেখছি বেশ। ডাহুক দেখতাম আগে। সেগুলো দেখা যায় না। 

কিছু চেনা রাস্তায় নতুন বাড়িঘর হয়েছে। অচেনা লাগে। ঘরে ফিরে ঘুম লেগে থাকে চোখের পাতায়।শঙ্খ ঘোষও ভারী লাগে।ঘুমোবার আগে কিছু খুঁজি। যেন কিছু খোঁজার আছে।