Wednesday, November 29, 2017

মাঝে মাঝে কিছু বুঝি না।  ঝরাপাতার মত  দিন ঝরে  চলে। সূর্যের এল লাল নীলাভ হয়ে হয়ে রাত্রি নামে। আবার সকাল হয়। আবার শান্ত দুপর আসে জানলায়। আবার বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যে। সূর্যের সাথে না বলা কথারা টুপটাপ ঝরে যায় গোধূলির ঘাসে। কি ভোগ জীবন ? দুপাশে পেরিয়ে রাস্তার দল বেরিয়ে যায় সুতোর মত ? কোন রাস্তা কোথায় যায় ? একরাশ তারার খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে আমারো প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে ''তুমি কথা হইতে আসিয়াছ ?'' এত মানুষ , কেন আসে, কেন যায় ? আমার বাড়িতে পাতিলেবুর গাছ ছিল। সেই গাছের পাশে দাঁড়িয়ে সবাইকে আমার বড় ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। আমার  ভীষণ বড় হাত থাকতো,  এই পৃথিবী জড়িয়ে ধরতাম বড় আদরে। সাইকেল নিয়ে দূরে নাজানা পথে চলে যেতাম। অনেক সর্ষে পাটক্ষেত বুনো ভাট জঙ্গল পেরিয়ে হয়তো দেখতাম কোনো ছোটবেলার বনধু মাছ ধরছে খেপলা জাল ফেলে। সাইকেল রেখে জানতে চাইতাম কিরে কেমন আছিস? কেমন আছে সবাই ? সবাই ভালো আছে তো ? সবাই যেন ভীষণ ভালো থাকে। সেখানে দাঁড়িয়ে সূর্য ডোবা দেখতাম। বিলের রং লাল করে সূর্য ডুবছে চুপচাপ। কি অদ্ভুত লাগে। আলো  মুছে গেলেও দাঁড়িয়ে থাকতাম বহুক্ষণ। তারপর হয়তো কালো নিকষ আকাশের তলায় দাঁড়িয়ে থাকতাম। বা একরাশ তারার মধ্যে দাঁড়িয়ে দুটো একটা চেনা তারা খুজতাম। বা হয়তো চাঁদনী রাতে মেঠো পথে সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরতাম চুপচাপ। সেই চেনা রোজের মধ্যে দিয়ে ঢুকতাম মধ্যবিত্ত পাড়ায়, শান্ত হয়ে গেছে। শুধু জিমখানার সামনের ছোটো মাঠটায় আলো টাঙিয়ে ছেলেরা হয়তো ব্যাডমিন্টন খেলবে শীতের রাতে। রাতে ছাদে যাবো। ভাইকে বলব এই তারাটাও চিনে ফেলেছি জানিস তো। তারপর হয়তো আবার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লিটল ম্যাগাজিনের প্ল্যান করবো অক্লেশে। হয়তো করা হবে না , তবুও বলব। বন্ধুরা সব সরে সরে গেছে। ফাঁকা স্রোতে ভেসে গেছি আমিও। হয়ত বইয়ের আলমারিতে পুরোনো বই দেখে মনে পড়বে আলোককে বইটা ফেরত দেওয়া হয় নি। আবার হয়তো শেষ পর্যন্ত শঙ্খ ঘোষে চলে যাবে হাত। শেষ অব্দি বিছানায় পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়ব আলগোছে, পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ শেষ করা হয়ে উঠবে না। এইসবই। কি ভীষণ ভালোবেসে রেখে দেবো চাদরে। পরে কোনোদিন চাদর খুললে ঝরে পড়বে টুপটাপ , আদরে কুড়িয়ে নেব আবার। আবার একবার মনে হবে কিছু বুঝি না। ঝরাপাতায় আরো কত পাতা জমে যাবে আরো। সেইসব আদর কুড়িয়ে বিলি করব আবার।