এতো বৃষ্টি হচ্ছে ক'দিন। সব ধুয়ে মুছে নিয়ে যাচ্ছে। পুকুর গুলো ভর্তি হয়ে গেছে। বিলগুলোও। বন্যা হবে নাকি ? এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। যে মেঘগুলো থেকে বৃষ্টি হচ্ছে সেগুলোর রং সাদা।
একদিন বাইরে গেলাম। ট্রেনে বসে চড়ে। নিজেকে রাজা রাজা মনে হলো। বাসের মধ্যে দিয়ে চারপাশের ফাঁকা মাঠগুলো সরে সরে যেতে দেখলাম। পুজো আসছে কিছুদিন পর। ফাঁকা মাঠগুলো কাশফুলে ভরে যাবে। আগেও দেখেছি। বেশ সুন্দর লাগে।
ট্রেনে চড়ে দেখলাম কয়েকজন ভদ্রমহিলা ছেলের ক্যান্সার এর জন্য সাহায্য চাইছেন। এক টাকাও সাহায্য করলাম না। ট্রেনের দরজায় দাঁড়ালাম। চুল কাটা হয় না বহুদিন। হাওয়ায় চুল উড়তে থাকলো। বিকেলবেলা। ক্ষেতে বোনা পাটের উপর থেকে আকাশ দেখছিলাম। নীল আকাশ। পাটক্ষেত সরে সরে যেতে লাগলো। নীল আকাশ একই থাকলো, মাঝে মাঝে সাদা পেঁজা পেঁজা মেঘ।
হোস্টেল অচেনা লাগে। জ্যোতি বাড়ি গেছে। কম মানুষ চিনি। চেনা রাস্তা গুলো অচেনা মনে হয়। রাত্রে গেলাম সকালে এলাম। কত নতুন মুখ। নতুন বিল্ডিং হচ্ছে আরো কিছু। বেরোনোর সময় দেখলাম সাদা বাসটা একরাশ ধুলো উড়িয়ে এক বা দুজনকে নিয়ে যাচ্ছে।
বাড়ি আছি বহুদিন। ঘরে। বিকেলে অচেনা রাস্তা খুঁজতে বেরোতাম। যাই না আর। এক লাইন লিখতে গিয়েই আটকে যাই। বহু দিন কিছু লিখিনি প্রায়। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পড়ছি কিছু। তার লেখাই আবার টুকে দিলাম।
এতকাল খুব ভালো ছিলাম, ভবিষতেও ভালো থাকবো।
যেমন চিরকাল গিয়েছি, ভবিষ্যতেও
তেমনি যাবো অন্ধকারে,
আত্মগোপনকারী রোগা জিরজিরে সেই জলের ধরে।
ঘরে ফিরেই যেমন নিয়ম,
দাঁতে কাটবো নিমের পাতা,
আগুন ছোঁবার জন্য আঙুল বাড়িয়ে রাখবো।
এই নিয়মে ভালো ছিলাম, ভালো আছি
এই নিয়মেই ভালো থাকব।
-নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (প্রত্যহ শ্মশানযাত্রা )
No comments:
Post a Comment